শেষ যাত্রায় ব্রাত্য, পথ হেঁটেছিলেন মাত্র কয়েকজন

দুটো হোল্ডঅল

শেষ যাত্রায়

১৯৬৮ সাল। জয়সলমেরে সত্যজিতের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর শুটিং চলছে। পুরো ইউনিট পৌঁছে গেলেও ছবিতে হাল্লার মন্ত্রী জহর তখনও এসে পৌঁছননি। রাত দশটায় তাঁর পৌঁছনোর কথা। সময় পেরিয়ে যায়, জহরের দেখা নেই। সে সময় তো ফোন করে জেনে নেওয়ার সুযোগও ছিল না। অবশেষে তিনি এলেন রাত আড়াইটেয়! দেরির কারণ কী? ‘আরে মশাই চাঁদনি রাত, ষাট মাইল স্পিডে চলেছি, দিব্যি পিচঢালা সোজা রাস্তা, অন্য গাড়ির চলাচল নেই। সর্দারজি ড্রাইভার বাঁ হাত কাঁধের পিছনে রেখে ডান হাতে আপেল নিয়ে তাতে কামড় দিচ্ছেন, স্টিয়ারিং-এ রেখেছেন নিজের ভুঁড়িটা। সেটাকে একটু এদিক ওদিক করলেই গাড়ি ঘুরছে। এমন সময় হুশ করে রাস্তার মাঝখানে পড়ে গেল একটা খরগোশ। তাকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়ি গেল উল্টে। আমার হুঁশ ছিল, দেখলাম আমি গড়াচ্ছি, আর আমার পাশ দিয়ে গড়াচ্ছে দুটো হোল্ডঅল। খটকা লাগল। হোল্ডঅল তো সঙ্গে একটি, অন্যটি এল কোত্থেকে? বুঝলাম ওটি হল আমাদের সর্দারজি,’ নিজেই সত্যজিৎকে জানালেন জহর। সকলে শুনে অবাক। ওদিকে সত্যজিৎ লিখেছেন, ‘জহরবাবুর নাক যে জখম হয়েছে সেটা দেখতেই পাচ্ছিলাম। আশ্চর্য এই যে জহরবাবু, ড্রাইভার সাহেব ও গাড়ি, এই তিনটের কোনওটাই খুব বেশি জখম হয়নি।’ সত্যিমিথ্যে জানা যায়নি, তবে আসল ঘটনার ওপর রং চড়িয়ে বলায় জহরের জুড়ি ছিল না সে কথা পরিচালকরা বিলক্ষণ জানতেন।

<—এক মুখ ময়দা | রসরাজ—>

Amazon Obhijaan



Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
1

Swati

Editor of a popular Bengali web-magazine. Writer, travel freak, nature addict, music lover, foody, crazy about hill stations and a dancer by passion. Burns the midnight oil to pen her prose. Also a poetry enthusiast.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *