শেষ যাত্রায় ব্রাত্য, পথ হেঁটেছিলেন মাত্র কয়েকজন

ভানু-জহরের বিচ্ছেদ

শেষ যাত্রায়

উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন জুটির যুগেও দর্শক শুধু ভানু-জহর জুটির নামে ছবি দেখতে যেত। আরও এক বিরল ঘটনার অধিকারী এই দুই কিংবদন্তি অভিনেতা। এঁদের নামে সে সময় একাধিক ছবি তৈরি হয়েছে। ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট’, ‘ভানু পেলো লটারি’, ‘এ জহর সে জহর নয়’ এরকম বেশ কিছু ছবি শুধুমাত্র ভানু ও জহরের কৌতুক অভিনয়ের ওপর ভরসা করেই পরিচালকরা তৈরি করেছিলেন। এমন সৌভাগ্য সে সময়ের তাবড় অভিনেতাদেরও হয়নি। দুই অভিনেতার মধ্যে অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্ব ছিল। একসময় গুজব রটে ভানু ও জহরের মধ্যে নাকি আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক, কেউ কাউকে দেখতে পারেন না। বলা বাহুল্য দুজনের কেউই এসব গুজবে কান দিতেন না। এ বিষয়ে জহরের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট, ‘যারা ওই সব কথা রটাচ্ছে তাদের মুখের মতো জবাব দেবার জন্য একবার বাথরুমে যাবার দরকার।’


ভানুর মতো জহরেরও ছিল বইয়ের শখ। নটসূর্য অহিন্দ্র চৌধুরীর থেকে পেয়েছিলেন বই পড়ার নেশা। প্রচুর বই পড়তেন তিনি। অমিয় নিবাসের অফিস কাম লাইব্রেরিতে বারোটা আলমারিতে ঠাসা ছিল কয়েক হাজার বই। কলকাতায় যে কোনও বই বেরোলেই তার এক কপি তাঁর কাছেও পৌঁছে যেত। বাংলার মতোই অনায়াসে বলতে পারতেন হিন্দি এবং ওড়িয়াও। যদিও বিমল রায়ের ‘পহেলা আদমি’ ছাড়া আর কোনও হিন্দি ছবি করেননি তিনি।

একবার ভানুর কাছে এসে একজন বললেন জহরের অফিসে যত বই সাজানো আছে সবই বুজরুকি, আসলে উনি কিছুই পড়েন না। ভানু উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি কিন্তু আমার সব বইতে মলাট দিয়ে রেখেছি, পাছে জহরের কাছে গিয়ে আবার বলেন, ভানুটা কিসসু পড়াশুনো করে না!’

<—সত্যজিতের আলজিভ | এক মুখ ময়দা—>

Amazon Obhijaan



Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
1

Swati

Editor of a popular Bengali web-magazine. Writer, travel freak, nature addict, music lover, foody, crazy about hill stations and a dancer by passion. Burns the midnight oil to pen her prose. Also a poetry enthusiast.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *