গার্হস্থ্য হিংসার শিকার, তবুও ঔজ্জ্বল্যে অম্লান
৯. বনাম পারভিন

১৯৫১ সালে জ়িনাতের জন্ম। দীর্ঘ সাত দশক অজস্র ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে এসে এখনও আগের মতোই উজ্জ্বল ও ঝকঝকে রয়েছেন ‘দম মারো দম’-এ সারা দেশে ঝড় তুলে দেওয়া সকলের চেয়ে আলাদা এই নায়িকা। নিজস্ব হাঁটাচলা ও অভিনয়ের নানা আঙ্গিকে এমন এক অভূতপূর্ব স্টাইলের জন্ম দেন তিনি যা হিন্দি ছবির ইন্ডাস্ট্রি আগে কখনও দেখেনি। খুব তাড়াতাড়ি ভারতীয় দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন জ়িনাত। এমনকি বহু ছবিতে তথাকথিত ভালো মেয়ের চরিত্রে অভিনয় না করেও দর্শকরা তাঁকে চিরকাল মাথায় করে রেখেছেন। এর কারণ হিসেবে জিনাত নিজে মনে করেন ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণা’ বা ‘রোটি কাপড়া আউর মকান’ এর মতো ছবিগুলোয় তাঁর চরিত্রের প্রেক্ষাপট এমনই ছিল যে দর্শক তাঁকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখেছেন।
আরও পড়ুন: থিয়েটারে ইন্দ্রাশিস, দেবলীনা, সাহেব
অল্প সময় কাজ করেও জ়িনাত চিরকালই প্রথম সারির নায়িকাদের মধ্যেই থেকেছেন। নায়ক প্রধান ছবির যুগেও ‘ইনসাফ কা তারাজ়ু’র মতো নায়িকা প্রধান ছবি করেছেন দাপটের সঙ্গে। একটা সময় মিডিয়া ও দর্শক জ়িনাত ও পারভিন ববির মধ্যে এক কাল্পনিক প্রতিযোগিতা তৈরি করে দেয়। এই দুই নায়িকাই মোটামুটি একই ঘরানার হওয়ায় অনেকেই মনে করতেন এঁরা একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও জ়িনাত নিজে বলেছেন সে সময় সকলের হাতেই ভালো কাজ ছিল। জ়িনাত নিজে দেব আনন্দ, শশী কাপুর, ধর্মেন্দ্র, অমিতাভ, রাজেশ খান্না, ফিরোজ় খান, বিনোদ খান্নার মতো নায়কদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করেছেন। পারভিনও তাঁর নিজের জায়গায় অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। কাজেই প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার কোনও সুযোগই ঘটেনি তাঁদের মধ্যে। এছাড়া জ়িনাত নিজে এতটাই কাজের মধ্যে ডুবে থাকতেন যে কোনওরকম প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ তাঁর মনেও কখনও আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

