লুকোনো আয়নায় নিজেকে চেনার প্রয়াস, মঞ্চস্থ হলো ‘প্রতিবিম্ব’
RBN Web Desk: প্রত্যেক মানুষের মনের ভেতরেই একটা লুকোনো আয়না থাকে। সেই আয়না আসলে আমাদের বিবেক। সদাজাগ্রত বিবেকের নীতিবোধ থেকে কোনও মানুষই পার পায় না। এই ভাবনা থেকেই মহেশ এলকুঞ্চওয়াড়ের রচনা অবলম্বনে সম্প্রতি মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘প্রতিবিম্ব’। নির্দেশনায় ছিলেন অবন্তী চক্রবর্তী। নাটকটিকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন জয়তী বসু। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুরজিৎ ঘোষ, খেয়ালী দস্তিদার, তুহিন মুখোপাধ্যায় ও চন্দ্রাণী চক্রবর্তী।
নাটকের মূল চরিত্র হলো ‘সে’। একদিন ‘সে’ আবিষ্কার করে যে আয়নায় তার কোনও ছায়া পড়ছে না। ‘সে’ ভাবে আয়নাটা নষ্ট হয়ে গেছে। ‘সে’ খবর দেয় তার বাড়িওয়ালি বৌদিকে। কিন্তু বৌদি এসে সেই আয়নায় তার নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পান। তখন ‘সে’ ভয় পেয়ে যায়। প্রতিবিম্ব সামাজিক প্রাণী হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। সেই প্রতিবিম্ব না থাকা মানে তো সামাজিক অবক্ষয়। ‘সে’ নিজের মনের মধ্যে প্রবেশ করে শুধু অন্ধকার খুঁজে পায়। তখন সেই বৌদি এগিয়ে আসেন তাকে সাহায্য করতে। কিন্তু ‘সে’র মনের মধ্যে ঢুকে বৌদি তার নিজের ইচ্ছার দাপট চালাতে থাকেন। হতাশ হয় ‘সে’, নিজের প্রতিবিম্বকে রক্ষা করতে সে ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফিরছে টিম ‘হামি’, দুটি নতুন ছবি ঘোষণা শিবু-নন্দিতার
এই অবস্থায় এগিয়ে আসে ‘সে’র বন্ধু ‘ঝাণ্ডা’। এই ‘ঝাণ্ডা’ এমন একজন মানুষ যে সবসময় অন্যের শেখানো বুলি বলে। সে মুখে সমাজের কথা, নিজেদের দায়িত্ববোধের কথা বললেও সে সব তার নিজের বিশ্বাসের কথা নয়। সেগুলো সবটাই অন্যের শেখানো। ‘ঝাণ্ডা’ এসেই শুরু করে তার বক্তৃতা, তার রসিকতা। তার কাছে সম্পূর্ণ ব্যাপারটাই খুব হাস্যকর লাগে। ‘সে’ রেগে গিয়ে ঝান্ডাকে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব খুঁজতে বলে। ‘ঝাণ্ডা’ অবাক হয়ে দেখে আয়নায় তাকে এক তোতাপাখির মতো দেখাচ্ছে। সে ক্ষুব্ধ হয়ে ‘সে’র মনে প্রবেশ করে, কিন্তু অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে। ‘সে’ খুঁজে আনে ‘ঝান্ডা’কে।
‘সে’কে বাঁচাতে এবার এগিয়ে আসে তার সহকর্মী ‘পাপোষ’। এই ‘পাপোষ’কে সকলেই তাদের কাজে ব্যবহার করে। ‘পাপোষ’ ‘সে’কে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়। ‘সে’ মনে করে ভালোবাসার একমাত্র গন্তব্য হলো সন্তানজন্ম। কিন্তু সেই সন্তানকে তারা কোনও সঠিক ভবিষ্যতের সন্ধান দিতে পারবে না তাই তাকে নিয়ে আসা অর্থহীন।
আরও পড়ুন: তৃতীয় বর্ষে তেলেঙ্গানা বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব
পরে দেখা যায় ‘পাপোষ’ও প্রতিবিম্বহীন, তাই সে মনে করে ‘সে’র সঙ্গে জীবন কাটানোর সুযোগ পেলে হয়তো তারা দুজনেই প্রতিবিম্বকে খুঁজে পাবে। কিন্তু ‘সে’র মনের কঠিন প্রাচীর ভেদ করে ঢুকতে ব্যর্থ হয় ‘পাপোষ’। এভাবে একে একে সকলেই তাদের প্রতিবিম্ব হারাতে থাকে। এগিয়ে চলে নাটক।
‘প্রতিবিম্ব’র মঞ্চসজ্জায় ছিলেন সুরজিৎ এবং আলোকসজ্জা সুদীপ সান্যালের। আবহ সঙ্গীতের দায়িত্বে ছিলেন দিশারী চক্রবর্তী।

