মৃণাল সেনের প্রদর্শনী ঘুরে গর্বিত অঞ্জন, মমতা শঙ্কর
কলকাতা: জন্মশতবর্ষে মৃণাল সেনকে নিয়ে এক প্রদর্শনী শুরু হলো নন্দন ফয়ারে। গতকাল ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দ্বিতীয় দিনে একযোগে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অঞ্জন দত্ত, মমতা শঙ্কর, রঞ্জিত মল্লিক ও গৌতম ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন সুদেষ্ণা রায় ও শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য। উদ্বোধনের পর সকলেই অনেকটা সময় নিয়ে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
প্রদর্শনীর এককোণে পরিচালকের সমস্ত ছবির তালিকা দেওয়া রয়েছে। এছাড়াও তাঁর জীবনের নানা ঘটনা ও ছবি তৈরির গল্প পাওয়া যাবে দেওয়ালজুড়ে। বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য স্থিরচিত্রও রয়েছে। প্যারাডাইস কফি হাউসে স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বদের আড্ডার গল্প থেকে রয়েছে স্ত্রী গীতা সেনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা ও ছবি। ‘বাইশে শ্রাবণ’ ছবির মৃত্যুর ঘটনার অনুপ্রেরণার গল্প থেকে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর চিঠির মাধ্যমে স্টেটসম্যান সংবাদপত্রে রেষারেষির কথাও।
আরও পড়ুন: “আজকাল অনেকেই আমাকে চিনতে পারছেন”
মৃণাল সেনের অন্যতম পছন্দের অভিনেতা ছিলেন অঞ্জন। প্রদর্শনী দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি। সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, ” কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মৃণালদার শতবর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। আমি গর্বিত। মৃণালদার একটা অভ্যেস ছিল, কোনও ছবি তৈরির কয়েক বছর পরেই বলতেন, ওই কাজটা ভালো হয়নি। কিন্তু ‘খারিজ’ ওঁর বরাবর খুব পছন্দের ছবি ছিল। খুব ভালো প্রদর্শনী হয়েছে, অনেকটা রিসার্চ করে খেটে করা হয়েছে কাজটা। সুদেষ্ণা, শুভাপ্রসন্নরা খুব যত্ন নিয়ে কাজটা করেছেন। মৃণালদা বেঁচে থাকলে খুব মজা পেতেন।”
মৃণাল সেনের অত্যন্ত কাছের এবং পছন্দের অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর তাঁর একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। “মৃণালদার সঙ্গে কত কাজ করেছি, প্রত্যেকটা ছবি একটা আলাদা অভিজ্ঞতা। শুটিংয়ের সময় কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত এত ভালো লাগতো যে মনে হতো যেন প্যাকআপ না হয়। আমার তো মনে হচ্ছে এক্ষুনি এই ভিড়ে মৃণালদাকে দেখতে পাব,” জানালেন তিনি।
আরও পড়ুন: এত ‘অরণ্য’ কেন?
“সেই দিনগুলোর জন্য আমার মনকেমন করছে,” বললেন রঞ্জিত। “মানুষ তার কীর্তি নিয়েই বেঁচে থাকে, মৃণালদাও তাই থাকবেন। আমি যখন ‘ইন্টারভিউ’ করতে আসি তখন অভিনয়ের কিছুই জানতাম না। উনি এমনভাবে শিখিয়ে নিয়েছিলেন যে ছবিটা পুরস্কার পেয়েছিল। কত বছর আগেকার ছবি। আজ সেসব ভেবে আমার মন ভরে যাচ্ছে।”
পরিচালনার জগতে মৃণাল সেনের অন্যতম উত্তরসূরি গৌতম জানালেন, “উনি মারা গেছেন মাত্র পাঁচবছর আগে। বেঁচে থাকতেই এরকম একটা প্রদর্শনী করার ইচ্ছে ছিল আমাদের। আজকে সেটা হচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে। মৃণালদার অনেকগুলো ছবি দেখানো হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম সেগুলো দেখুক। উনি কীভাবে নিজেকে নির্মাণ ও বিনির্মাণ করেছেন সেটা বোঝা খুব দরকার। শেষবার যখন দেখা হয় আমার ‘রহগির’ ছবির কথা শুনে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কম্প্রোমাইজ করোনি তো? ওটা কখনও কোরো না। কম্প্রোমাইজকে কোনওদিন সমর্থন করেননি উনি।”
ছবি: সুফল ভট্টাচার্য
