বাংলা সাহিত্যের তিন কালজয়ী চরিত্র মিলে ‘‘ভূত’পূর্ব’
RBN Web Desk: ফণীভূষণ, তারানাথ এবং পূর্ণেন্দু। তিনটি ভিন্ন চরিত্র, তিনটি ভিন্ন গল্প। অথচ তিনজনের নিয়তি যেন একসূত্রে বাঁধা। আবার, ঘটনাচক্রে এই তিন পুরুষের জীবন আবর্তিত হয়েছে মণিমালিকা, মধুসুন্দরী দেবী এবং তিলোত্তমা, এই তিন নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে। তাদের ঘিরেই পরিচালক কাকলি ঘোষ এবং অভিনব মুখোপাধ্যায় সাজিয়ে ফেলেছেন ‘‘ভূত’পূর্ব’ (BhutoPurbo) ছবির প্রেক্ষাপট। গতকাল শহরের এক রেস্তোরাঁয় মুক্তি পেল ছবির ট্রেলর। হাজির ছিলেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মণিহারা’, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ এবং মনোজ সেনের ‘শিকার’ অবলম্বনে লেখা হয়েছে এই ছবির চিত্রনাট্য। বাংলা সাহিত্যে মণিমাণিক্যের সংখ্যা তো নেহাত কম নয়, সে ক্ষেত্রে ‘‘ভূত’পূর্ব’র জন্য এমন অতি পরিচিত তিনটি কালজয়ী গল্প বেছে নেওয়ার নেপথ্যে বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি?
ছবির জন্য গল্প বাছাই করার সময়ে এই তিনটির মধ্যে অদ্ভুত এক সাযুজ্য লক্ষ্য করেছিলেন পরিচালকদ্বয়। সেই সূত্র ধরেই ‘‘ভূত’পূর্ব’র চিত্রনাট্য বাঁধা হয়। কাকলি এবং অভিনবর কথায়, “এখানে তিনটি গল্পের তিনটি চরিত্রের মধ্যেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বাসনার খোঁজ পেয়েছিলাম আমরা। সেই সূত্র ধরেই মণিমালিকা, তারানাথ এবং পূর্ণেন্দুর আবির্ভাব ঘটে আমাদের গল্পে।”
আরও পড়ুন: সৃজিতের মহরত, রামকৃষ্ণের চরিত্রে কে?
বইয়ের পাশাপাশি ‘মণিহারা’, ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ কিংবা ‘শিকার’-এর মতো গল্প বিভিন্ন মাধ্যমে আলাদা আলাদাভাবে দেখা কিংবা শোনা গিয়েছে। কিন্তু এখানে চ্যালেঞ্জের বিষয় হলো তিন লেখকের মনস্তত্ত্বকে একসূত্রে বেঁধে নতুন একটি গল্পের জন্ম দেওয়া। তিনটি গল্পের মূল বিষয় এক রেখেও তিন কথককে একত্রিত করার কাজটি সামলেছেন চিত্রনাট্যকার। কোন জাদুবলে তিনটি গল্পের ভিন্ন ধারা একই দিকে প্রবাহিত হয় তা দেখার জন্য অবশ্য আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে।
ছবিতে মণিমালিকার ভূমিকায় দেখা যাবে অমৃতা চট্টোপাধ্যায়কে (Amrita Chatterjee)। বিপরীতে অর্থাৎ ফণীভূষণের চরিত্রে রয়েছেন সত্যম ভট্টাচার্য (Satyam Bhattacharya)। তারানাথ তান্ত্রিকের ভূমিকায় দেখা যাবে সপ্তর্ষি মৌলিককে (Saptarshi Moulik)। রূপাঞ্জনা মিত্র (Rupanjana Mitra) অভিনয় করেছেন মধুসুন্দরী দেবীর ভূমিকায়। ‘শিকার’ গল্পের মুখ্য চরিত্র অর্থাৎ পূর্ণেন্দু এবং তিলোত্তমার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সুহোত্র মুখোপাধ্যায় (Suhotra Mukhopadhay) এবং সন্দীপ্তা সেন (Sandipta Sen)।
এখন অপেক্ষা শুধু ছবি মুক্তি পাওয়ার। ২৭ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি, তার পর দর্শকেরা বলবেন ‘‘ভূত’পূর্ব’ আসলে অভূতপূর্ব হলো কিনা।
ছবি: প্রতিবেদক
