“আর লুকিয়ে ডেট করলে…”
সৌমিক কুণ্ডুর ‘তেজপাতা’, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের ‘বিবি বক্সী’, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’, সব ছবিই তাঁর ফ্লোরে। কিছু শুটিং হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। ওদিকে ‘অসুখ-বিসুখ’ মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে। এদিকে সদ্য মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য একেন: বেনারসে বিভীষিকা’। সবমিলিয়ে অভিনেত্রী ইশা সাহার (Ishaa Saha) ইনিংস বেশ ঈর্ষণীয়। ‘বেনারসে বিভীষিকা’র ট্রেলার প্রকাশের মঞ্চে পেস্তারঙা সুইটহার্ট নেক পশ্চিমী পোশাকে ইশাকে পাওয়া গেল বেশ খোশমেজাজে। রেডিওবাংলানেট-কে মন খুলে জানালেন অনেক কথা
আরও একটা গোয়েন্দা সিরিজ়ের অংশ হল। সোনাদা সিরিজ়ের ঝিনুক বেশ জনপ্রিয়। একেনবাবুতে তুমি কোন ভূমিকায়?
ইশা: দুটো একেবারেই আলাদা। একেনে আমি গোয়েন্দা নই। এখানে গোয়েন্দারা আমার পিছনে। আমিই রহস্যের কারণ। এখানে আমার গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। রাজি হয়েছি, প্রথম কারণ একেনবাবু নামটা। দ্বিতীয়ত, চরিত্রটা একটু হলেও আলাদা। নতুন কিছু তো এক্সপ্লোর করা দরকার। সবসময় একইরকম চরিত্র করব নাকি!
শুনছি পরের বছরই নাকি মুক্তি পাবে সোনাদার নতুন সিরিজ়?
ইশা: আমিও আশা করছি। শুটিং শুরু হবে খুব তাড়াতাড়ি। সব ঠিক থাকলে হয়তো পরের বছর গরমেই মুক্তি পেতে পারে।
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতেও তো রয়েছ
ইশা: হ্যাঁ, সৃজিতদার সঙ্গে আমার প্রথম ছবি। রানাদা (সরকার) রয়েছেন। এই দুজনের কম্বিনেশন মারাত্মক। আমার চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ডটা একেবারেই অন্যরকম। বাকিটা প্রমোশনের সময় বলব।
‘তেজপাতা’য় তোমার অভিনীত চরিত্রটা কেমন? বিপরীতে কে?
ইশা: ‘তেজপাতা’য় আমার চরিত্রের নাম দেবপর্ণা। অল্পবয়সী, আত্মবিশ্বাসী, চাকুরিরত। জেনারেশন গ্যাপের কারণে পরিবারের মধ্যেই তার অনেক মতবিরোধ তৈরি হয়। কারণ সে ভাবে, আমি যা করছি সব ঠিক। তারপর তার বিয়ে হয়। স্বাভাবিকভাবেই অনেক বিরোধ তৈরি হয়। এভাবেই গল্প এগোতে থাকে। নিখাদ ফ্যামিলি ড্রামা। কিন্তু অন্যরকমের একটা প্রেম। ছবিতে আমার বিপরীতে রয়েছে পরমদা (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়)। আর পরমদার মায়ের চরিত্রে লাবনীদি।
আরও পড়ুন: আবারও একসঙ্গে জন-অক্ষয়?
চারপাশে আকছার বিচ্ছেদের কথা শোনা যায়। সেখানে ‘তেজপাতা’ কি নতুন স্বপ্ন বুনবে?
ইশা: আমার মনে হয় বুনবে। এই ছবিতে আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা দুটো মানুষের বোঝাপড়া একেবারে অন্যভাবে দেখানো হয়েছে। আসলে সম্পর্কের মধ্যে যখন পলিটিক্স ঢুকে যায় তখনই গণ্ডগোল শুরু হয়।
অধিকাংশ ছবি বা সিরিজ়ে তোমাকে আদ্যোপান্ত বাঙালি নারী হিসেবেই দেখা গিয়েছে। ছকভাঙা বোল্ড চরিত্রে তোমার কি আপত্তি?
ইশা: এখানে ক’টা বোল্ড চরিত্র হয়? আমি তো অনস্ক্রিন চুমুও খেয়েছি। বোল্ড বলতে কীরকম? ডিপেন্ড করছে। যতটুকু চরিত্রের প্রয়োজন সেটুকু তো আমি খুব সাবলীলভাবেই করেছি। আগামী দিনেও করব।
আরও পড়ুন: রাজ কপূরের বাড়িতে সিমিকে দেখে পছন্দ করেন সত্যজিৎ রায়
শাহরুখ খানের রেড কার্পেট লুক ভালো লেগেছে?
ইশা: হ্যাঁ, কিন্তু প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার লুক আমার বেশি ভালো লেগেছে।
‘অসুখ বিসুখ’ মুক্তি পিছিয়ে গেল কেন?
ইশা: প্রযোজক বদল হয়েছে। সেক্ষেত্রে কিছু টেকনিক্যাল অসুবিধা হয়তো তৈরি হয়েছে। এ বছর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি ক্লুলেস। দু’বছর আগে শুটিং হয়েছে। ছবিতে আমার সঙ্গে জুটিতে রয়েছে অঙ্কুশ হাজরা। এবং আমাদের একটি সাত বছরের বাচ্চাও আছে। এই ছবিতে ডাক্তারের চরিত্রে অভিনয় করেছে পরমদা ও সায়নী গুপ্তা। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি।
আরও পড়ুন: কেমন আছে মুকুলের বাড়ি? ছবি তুলে আনলেন রিঙ্গো
সব মিলিয়ে ইশার ইনিংস তাহলে জমজমাট?
ইশা: ওরকম ভাবে ভাবছি না, জানো। ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা তো খুব একটা ভালো নয়। এখানে কখন কাজ হবে, কখন হবে না সেটা খুব অনিশ্চিত। তাছাড়া দেশের পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয়। আশার ওপর বেঁচে আছি বলতে পারো। যতটুকু হচ্ছে সেটা আমাদের জন্য এবং টেকনিশিয়নদের জন্যেও ভালো।
এতবছর ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছ, এখানে কাজ পাওয়া কি সত্যিই কঠিন বলে মনে হয়?
ইশা: দেখো, গত দেড়বছর সেভাবে কাজ হয়নি। তখন কিন্তু তুমি সাক্ষাৎকারের জন্য ফোন করোনি। দু’বছর আগে ‘অসুখ বিসুখ’ শুট হয়েছে কিন্তু রিলিজ় করেনি। ‘অপরিচিত’ মুক্তি পেয়েছে। সেটাও অনেক আগে করা। কাজ তো করছি, থেমে নেই। আসলে এটা একটা কনসেপ্ট বলে মনে হয় আমার।

‘বেনারসে বিভীষিকা’ ছবিতে
এই গরমে তোমার ডায়েটের স্পেশাল মেনু কী?
ইশা: স্পাইসি বাদে সব খাচ্ছি। আর বাড়ির খাবার খাওয়ার চেষ্টা করছি।
গরমের ছুটিতে কোথায় যেতে চাও?
ইশা: অবশ্যই পাহাড়।
সামার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট?
ইশা: মলমল।
তোমার দেখা শেষ বাংলা ছবি?
ইশা: কিলবিল সোসাইটি।
শেষ কোন বই বা জার্নাল পড়েছ?
ইশা: চৈতন্যদেবের উপরে একটা বই পড়ছিলাম লেখকের নামটা…বাড়ি গিয়েই বলছি।
তুমি যদি কখনও পরিচালক হও, ইন্ডাস্ট্রির কোন নায়ককে নিজের বিপরীতে কাস্ট করবে?
ইশা: আমি কোনওদিন পরিচালক হতে চাইনি। কাকে নেব সেটা তো গল্পের উপর নির্ভর করছে। আমি অভিনেতা ভেবে গল্প লিখব না।
লুকিয়ে কাকে ডেট করতে চাও?
ইশা: কারও সঙ্গে না। আর লুকিয়ে ডেট করলে…ও বাবা! তখন তো তোমরাই ঝাঁপিয়ে পড়বে।
ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার্স বাড়লে কি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পেতে সুবিধা হয়?
ইশা: এ বাবা, আমার তো ফলোয়ার্স কমছে।
