পাওনা টাকা চেয়ে খুনের হুমকি, ছবির প্রযোজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের জনসংযোগ কর্মীর
কলকাতা: এক জনসংযোগ কর্মীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল টালিগঞ্জের এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে। তারা মা অ্যাডভারটাইজ়িং এজেন্সিতে কর্মরত অতসী ভৌমিক বাঁশদ্রোনী থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন যে তাঁর পাওনা টাকার জন্য দাবী জানাতে গেলে রমেশ সিংঘল নামের ওই প্রযোজক তাঁকে খুনের চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় উত্তপ্ত টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া।
রেডিওবাংলানেট-কে অতসী জানালেন, “আমি রমেশের হয়ে ‘পলাতক’ ছবির জন্য জনসংযোগের কাজ করেছিলাম । এই ছবির পরিচালক ছিলেন নিহাল দত্ত। রমেশের কাছে আমার ₹৫.৭২ লক্ষ পাওনা অনেকদিন ধরে। আমি যতবার চেয়েছি উনি বলেছেন দিয়ে দেব। কিন্তু বার বার ডেট দিয়েও তিনি কখনওই আসতেন না।”
অতসীর অভিযোগ রমেশ কিছুদিন আগে বলেছিলেন কলকাতায় এলে তিনি বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেবেন। “এরপরে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ২৩ আগস্ট আমি ওনার অফিসে যাই,” জানালেন অতসী। “সেখানে গিয়ে জানতে পারি উনি কলকাতাতেই আছেন। অফিসে রমেশকে না পেয়ে আমি কাছেই ওনার বাড়িতে যাই। সেখানে ওনার স্ত্রী ও মেয়ে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আমি বলেছিলাম টাকাটা উনি কবে দেবেন সেটুকু জেনেই আমি চলে যাব।”
আরও পড়ুন: বন্ধ হল ‘সৌদামিনীর সংসার’ সহ পাঁচটি ধারাবাহিকের কাজ
অতসীকে জানানো হয় ২৬ আগস্ট অফিসে এলে উনি টাকা পেয়ে যাবেন। সেই মতো ওই দিন সকালে অতসী রমেশের অফিসে যান।
ঠিক কি হল তারপর?
“আমাকে যে ঘরে ডাকা হলো সেখানে ওই প্রযোজকের সঙ্গে এক মহিলা ও অন্য একটি লোকও ছিল। সেই লোকটি পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং করছিল। আমাকে সকলের সামনে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলা হয় আমি কোন সাহসে ওনার বাড়িতে গেছি। উনি আমার আঙুল কেটে নেবেন বলেও হুমকিও দেন। তারপর ছুরি আর কাটারি নিয়ে আমাকে আক্রমণ করতে যান। বাকি দুজন তখন ঘরে বসে দেখছেন। আমি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। আমার তখন নিজের দু’বছরের বাচ্চার কথা মনে পড়ছিল,” জানালেন অতসী।
আরও পড়ুন: ‘গুমনামী’ নিয়ে বিতর্ক অবাঞ্ছিত, মত মধুর ভান্ডারকরের
এই সময় কথা কাটাকাটির মধ্যে কোনওরকমে অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়ে বাঁশদ্রোনী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অতসী। “থানা থেকে তখন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে দেখা যায় যে সমস্ত চার্জই জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ থানাতে আমাকে বলা হয়েছিল খুনের চেষ্টার অভিযোগে জামিন অযোগ্য চার্জ দেওয়া হয়। থানার অফিসার বলেন, খুনের চেষ্টাই তো করেছে, আপনি তো খুন হননি। রক্ত তো বেরোয়নি কোনওভাবে,” দাবী অতসীর।
এই ঘটনার পরে অতসী সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, রমেশ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি বলেই এমনটা হয়েছে। থানা থেকে তাঁকে এমনও বলা হয়েছে যে স্থানীয় অফিসারদের ওপর ভরসা না রাখতে পারলে তিনি যেন ওপর মহলে যোগাযোগ করেন।
তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে রমেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩ (মারধর), ৫০৬ (ভয় দেখানো) এবং ৩৪১ (বলপূর্বক আটকে রাখা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

