প্রযোজনা ইউলিপ প্ল্যান নয়, বরং মিউচুয়াল ফান্ডের মতো: ঋতুপর্ণা
RBN News Desk: নিজে সদ্য প্রযোজক হয়েছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় জগতে থাকার সুবাদে প্রযোজনাকে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো করে দেখা উচিত বলেই মনে করেন তিনি।
প্রশ্ন ছিল বাংলায় নারীকেন্দ্রিক ছবি এত কম হচ্ছে কেন?
উত্তরে ঋতুপর্ণা রেডিওবাংলানেট কে জানালেন, “আমি নিজে অনেক নারীকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করেছি। যেমন ‘দহন’, ‘আলো’, ‘পারমিতার একদিন’, ‘রাজকাহিনী’, কিছুদিন আগে করলাম ‘দত্তা’। এগুলো সবই নারীকেন্দ্রিক আর দর্শক এই ছবিগুলোকে ভালোবেসেছেন, এখনও বাসেন। তবে হ্যাঁ ইদানিং তেমন ছবি কম হচ্ছে। তার কারণ হিসেবে আমার মনে হয় যেমন ভালো স্ক্রিপ্টের অভাব তেমনই ঝুঁকি নেওয়ার মতো প্রযোজকের অভাব রয়েছে।”
ঋতুপর্ণার মতে শুধু ভালো কনটেন্ট নয়, বরং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভালো ছবি করার জন্য নতুন প্রযোজকদেরও উঠে আসা দরকার। “নারীকেন্দ্রিক ছবি হোক বা যে কোনও ভালো বিষয় নিয়ে বুঝে ছবি করার মতো প্রযোজকের সত্যি অভাব রয়েছে। অনেকের হাতেই ভালো কনটেন্ট রয়েছে। কিন্তু সেটা বোঝার মতো প্রযোজকও তো চাই। এটা বুঝতে হবে যে একটা ছবি করেই বিশাল লাভ হয়ে যাবে এমনটা নয়। এখানে কাজ করতে হলে সেই টিকে থাকার ধৈর্যটা চাই যে একটা ছবি না চললে পরেরটা বা তার পরেরটা চলবে, সেই আশায় আমি টাকাটা ইনভেস্ট করব। এখানে বেশিরভাগই আসে চটজলদি নাম আর টাকা কমাবার আশায়।”
আরও পড়ুন: ১৩ বছর পর হিট এল অনুরাগের ঝুলিতে
তিনি মনে করেন আজকেই একটা পুঁজি নিয়ে এসে কাল সেটা দ্বিগুণ করে নিয়ে চলে যাব এমন মানসিকতা থাকলে ছবি প্রযোজনায় আসা উচিত নয়। “‘এসভিএফ’ কিন্তু একদিনে এত বড় প্রযোজনা সংস্থা হয়নি। ওরা রাখির ব্যবসা দিয়ে শুরু করেছিল। দুই ভাই মিলে যখন ছবির কাজ শুরু করে তখন ওদের নিজেদের অফিসও ছিল না। আর এখন সেই সংস্থায় নতুনরা কাজ পাচ্ছে। অশোক ধানুকার একটা সময় অন্য নানা ব্যবসা ছিল। সেখান থেকে আজ ‘এসকে’ এত বড় একটা প্রযোজনা সংস্থা। কারণ তিনি এতদিন থেকে গিয়েছেন এখানে। তাই একদিনে কিছু পাল্টে যাবে এটা ভাবা ভুল। টিকে থাকতে হবে, লেগে থাকতে হবে, একটু একটু করেই একদিন বড় হওয়া যাবে। শাহরুখ খানও একদিনে সুপারস্টার হননি। আমিও যেদিন এসেছিলাম আমাকে কেউ চিনত না” মনে করেন তিনি।
বাংলায় কনটেন্টের অভাব রয়েছে এমনটা মনে করেন না ঋতুপর্ণা। তাঁর মতে কনটেন্টের সঙ্গে ভালো কাজ করার মতো অভিনেতা পরিচালক টেকনিশিয়ন সবই আছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে। “সব থাকা সত্বেও দু’-একটা বড় হাউজ় ছাড়া গুছিয়ে একটা ছবি করার মতো মানসিকতার প্রযোজকের এখানে বড় অভাব। ঝুঁকি নেওয়ার সাহস থাকতে হবে। এটা ইউলিপ প্ল্যানের মতো চটজলদি টাকা ফেরত আসার জায়গা নয়। বরং মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ধৈর্য নিয়ে ইনভেস্ট করলে একটা সময় কিন্তু লাভ হবেই,” বললেন ঋতুপর্ণা।
আরও পড়ুন: শিগগিরই ওটিটিতে আসছে কাজলের ‘মা’
প্রযোজক হিসেবে তিনি কোন ধরনের ছবি করতে চাইবেন?
“তেমন কিছুই ভাবা হয়নি গো এখনও,” হেসে বললেন তিনি, “তবে শুধু নারীকেন্দ্রিক বা রহস্য নিয়ে কাজ করব এরকম কোনও পরিকল্পনা নেই। আমার সবরকম বিষয়ে ছবি করার ইচ্ছে রয়েছে। তবে হ্যাঁ, বাঙালি আবেগপ্রবণ ছবি দেখতে ভালোবাসে। তাই যে ধরনের ছবি দর্শকের মনকে ছুঁয়ে যায় সেরকম কিছুই করার ইচ্ছে রয়েছে।”
