ছ’মাসের মধ্যেই যবনিকা, হতাশ শিল্পীরা
RBN Web Desk: শুরটা হয়েছিল বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে। কিন্তু শেষটা হল অকস্মাৎ, আর সেটাই মেনে নিতে পারছেন না ‘আমি সিরাজের বেগম’ ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী ও কলাকুশলীরা। গতকাল হয়ে গেল এই ধারাবাহিকের শেষ পর্বের শ্যুটিং। ছ’মাসের মধ্যেই যবনিকা পড়ল সিরাজউদ্দৌলা-লুৎফুন্নিসার প্রেম কাহিনীর।
পারিশ্রমিক সংক্রান্ত সমস্যায় মাঝে মধ্যেই জর্জরিত হয়েছে ‘আমি সিরাজের বেগম’-এর কাজ। অনেক শিল্পী ও কলাকুশলীর বেশ কয়েক মাসের বেতন বকেয়া। নতুন প্রযোজনা সংস্থা দায়িত্ব নিলেও শেষরক্ষা হল না।
এই ধারাবাহিকে ঘসেটি বেগমের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চান্দ্রেয়ী ঘোষ। তাঁর পারিশ্রমিক বকেয়া না থাকলেও ধারাবাহিকটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ তিনিও। সংবাদমাধ্যমকে চান্দ্রেয়ী জানালেন, দারুণভাবে শুরু হয়েছিল ধারাবাহিকটি। হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়াতে খারাপ লাগছে। কিন্তু মেনে নেওয়া ছাড়া কিছু করার নেই, বললেন তিনি।
‘বাজে কাজ করতে পারব না, তাই তিনটে দরজাই খুলে রেখেছি’
‘আমি সিরাজের বেগম’-এ সিরাজের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন শন বন্দ্যোপাধ্যায়। পারিশ্রমিক বকেয়া নেই তাঁরও, কিন্তু হতাশা লুকোতে পারছেন না। সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, এই ধারাবাহিকে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছেন, হঠাৎই বন্ধ হয়ে যাওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক। তবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ছোট, তাই সহযোগী শিল্পীদের সঙ্গে অন্য কোনও ধারাবাহিকের কাজে দেখা হয়ে যাবেই, বললেন শন।
ঠিক কি কারণে বন্ধ করে দেওয়া হল ‘আমি সিরাজের বেগম’?
পঁচিশে ‘উনিশে এপ্রিল’
শোনা যাচ্ছে অনেক অভিনেতাদের বকেয়া নিয়ে কোনও সমস্যা না হলেও, টেকনিশিয়ন ও অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের প্রায় সবারই পারিশ্রমিক বাকি। আগের প্রযোজক ও তাঁর সংস্থার কর্মীরা সবাই বেপাত্তা। সেই বকেয়া টাকা এখন এতটাই বিশাল অঙ্কে দাঁড়িয়েছে যে নতুন প্রযোজনা সংস্থা তার দায়িত্ব নিতে চাইছে না।
‘আমি সিরাজের বেগম’ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎও এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। এই ধারাবাহিকগুলোও একই কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

