প্রাচীন মন্দিরের খোঁজে শতাক্ষী, হদিশ দেবে ‘কাল্পনিক’
RBN Web Desk: ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে নিজস্ব বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠা নিয়ে পরিচালক অর্ক মুখোপাধ্যায় (Arka Mukherjee) তৈরি করেছেন রাজনৈতিক থ্রিলার ছবি ‘কাল্পনিক’ (Kalponik)। তাঁর নিজের সঞ্চিত অর্থে তৈরি সম্পূর্ণ স্বাধীন এই ছবিতে অভিনয় করেছেন শতাক্ষী নন্দী (Satakshi Nandy), রজতাভ দত্ত (Rajatava Dutta), সাহিদুর রহমান, সায়ন ঘোষ। গতবছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছিল ছবিটি। ছবিতে একজন নারী সাংবাদিকের জীবনের মাধ্যমে তথাকথিত আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
সাংবাদিক মৈথিলী (শতাক্ষী) একটি ভুল রিপোর্টিংয়ের কারণে তার চাকরি ও সামাজিক মর্যাদা হারায়। এই অবস্থায় তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, অধিরাজ মিত্র। নতুন একটি মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মৈথিলীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজের আশ্বাস দেন তিনি। এরপর মৈথিলী উঠে পড়ে লাগে তার অসমাপ্ত প্রজেক্ট শেষ করতে। চক্রপানিপুর নামে এক ঐতিহাসিক শহরে রয়েছে আসারু নামের একটি গ্রাম। সেই গ্রামে রয়েছে একটি হারিয়ে যাওয়া হিন্দু মন্দির, যা বর্তমানে একটি পুরনো মসজিদের তলায় লুকিয়ে আছে। সেই মন্দির সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে মৈথিলী একদিকে যেমন পরিচিতি পেতে থাকে তেমনই তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ধর্মীয় উত্তেজনা ও হিংসার পরিমন্ডলও। মৈথিলীর পৌঁছনোর আগেই এই গ্রামে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু ঘটে প্রফেসর দেবারি রক্ষিতের, যার সঙ্গে দেখা করতে আসছিল সে। কেন এবং কীভাবে মৃত্যু হলো প্রফেসরের? মন্দিরের সঙ্গে কী সম্পর্ক ছিল তার? এই ঘটনা কি মৈথিলির অনুসন্ধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে?
আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কোনও তথ্য বিকৃতি হয়নি: সায়ন্তন
ছবিতে নিজের চরিত্র নিয়ে শতাক্ষী জানালেন, “এরকম একটা রাজনৈতিক থ্রিলারের অংশ হতে পেরে আমি খুশি। আমাকে সাধারণত মেঠো চরিত্রেই দেখা যায়। এখানে আমার চরিত্রটা একেবারে অন্যরকম। বাংলায় এই ধরনের ছবিও খুব বেশি হয় না। এই ছবির জন্য আমার স্কুটি বাইক সব চালানোই শেখা হয়ে গেল। কারণ মৈথিলীকে বাইক চালিয়ে চক্রপানিপুর পৌঁছতে হয়েছে। তবে মৈথিলী সাংবাদিক নাকি গোয়েন্দা সেই নিয়ে দর্শকদের মনে প্রশ্ন উঠবে।”
অর্ক জানালেন, “নিজের জমানো টাকা দিয়ে ছবি তৈরি করেছি। নিজস্ব বিশ্বাসের ওপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এই ছবিটা। এই সময়ে দাঁড়িয়ে খুব প্রয়োজনীয় এই বিষয়টা।”
ছবির শুটিং হয়েছে পুরুলিয়া ও কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন শুভদীপ দে। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন কিশলয় রায়। সম্পাদনা করেছেন অমিতাভ দাশগুপ্ত। ১১ জুলাই মুক্তি পাবে ৯২ মিনিটের এই ছবি।
