রসায়ন নয়, না-পাওয়াই পাওয়া ‘ধূমকেতু’তে

ছবি: ধূমকেতু

পরিচালনা: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়

অভিনয়ে: দেব, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, দুলাল লাহিড়ি, চিরঞ্জীৎ চক্রবর্তী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট

RBN রেটিং ★★★★★★★☆☆☆

 

অরণ্যদেব: জীবনে মানুষ যা যা চায়, তার সবকিছু পাওয়া হয় না। নিয়তির খেলায় অনেক কিছুই তার হাতে এসেও অধরাই থেকে যায় সারা জীবনের মতো। সেই কাহিনিই শোনায় কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের (Kaushik Ganguly) সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ধূমকেতু’ (Dhumketu)




ছবির শুরুতেই দেখা যায়, মোহনগঞ্জের পোস্টমাস্টার যোগেশকে (রুদ্রনীল) কিছু উগ্রপন্থীরা অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে জানায়, তার বাড়িতে সাত দিনের জন্য একজন এসে থাকবে। অচেনা-অজানা একজনকে বাড়িতে রাখতে হবে ভেবে খানিক ইতস্তত করে যোগেশ। উগ্রপন্থীরা তাকে জানায়, এ লোক তার খুবই পরিচিত। ছবি দেখে চিনতেও পারে যোগেশ। এ যে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ভানু (দেব)! চার বছর আগেই যার মৃত্যুসংবাদ গোটা মোহনগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছিল। আজও বুকে সে পাথর চেপেই বাঁচছেন ভানুর বাবা সূর্য সিংহ (দুলাল) ও ভানুর স্ত্রী রূপা (শুভশ্রী)। কিন্তু ভানু এখানে কী করছে? কী চাই তার? এত দিন পরে নিজের কাছের মানুষদের কাছে ফিরে এসে ভানু কী করবে? সেই কাহিনিই বলে ‘ধূমকেতু’।

আরও পড়ুন: দুর্বোধ্য সম্পর্কের রসায়ন, অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব ধরা পড়ে ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’য়

সময়ের নিরিখে এই ছবি নতুন নয়। বরং ২০১৬ থেকে বার-বার মুক্তি পিছিয়ে ন’বছর পরে অবশেষে মুক্তি পেল ‘ধূমকেতু’। কিন্তু এতগুলো বছর পরেও বিন্দুমাত্র প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি এই ছবি। কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপে কৌশিক বার-বার দর্শকের মনে সমাজের জ্বলন্ত সমস্যাগুলির কথা জাগিয়ে তোলেন। পাশাপাশি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা নয়, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা-সন্তান, বন্ধুর ভালোবাসাও ফুটে উঠেছে এই ছবিতে। বেশ কিছু অংশে দর্শকের চোখ ভিজতে বাধ্য।

সৌমিক হালদারের চিত্রগ্রহণ ছবির মতো সুন্দর। তার সঙ্গে যথাযথ সঙ্গত করে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর আবহ। অনুপম রায়ের সঙ্গীত পরিচালনায় গানগুলি এই ছবিতে যেন বাড়তি প্রাণসঞ্চার করেছে। শুভজিৎ সিংহর সম্পাদনা যথাযথ। তবে, ছবির দৈর্ঘ্য আরও একটু কম হলে কোনও ক্ষতি হতো না। ছবিতে প্রস্থেটিক মেকআপের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য প্রয়াত বিক্রম গায়কোয়াড়ের।

আরও পড়ুন: জিতের ছবির হাত ধরে বাংলায় ফিরলেন শান্তনু

অভিনয়ের দিক থেকে এই ছবিকে রুদ্রনীল-সর্বস্ব বলা চলে। সেরা অভিনেতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই থাকবেন দুলাল লাহিড়ি। ‘নায়ক’ ছবিতে শঙ্করদা-রূপী সোমেন বসুকে বলতে শোনা যায়, ‘অভিনেতা হলো পরিচালকের হাতের পুতুল!’ সে কথা যেন এখানে দেব ও শুভশ্রীকে দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন পরিচালক। ২০১৬-য় দেব-শুভশ্রী জুটি হিট হলেও তাঁদের অভিনয়ক্ষমতা নিয়ে প্রায়শই কড়া সমালোচনা হতো। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে সেই জুটিকে দিয়ে এমন পরিণত অভিনয় করানো পরিচালকেরই কৃতিত্ব। নায়ক হিসেবে দেবকে তার সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে ব্যবহার করে নিয়েছেন কৌশিক। কিন্তু শুভশ্রীর বিশেষ কিছু করার ছিল না। তাঁর ভূমিকা তিনি যথাযথভাবে পালন করে গিয়েছেন মাত্র। অন্য দিকে চিরঞ্জীৎ ও পরমব্রতর মতো হেভিওয়েট অভিনেতাদের নিয়েও বিশেষ কাজের কাজ হয়নি। তাঁদের জায়গায় অন্য কোনও অনামী অভিনেতা থাকলেও ফলাফল একই হতো।

তবে, দেব-শুভশ্রীর টান হোক, বা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবির টান; সবার উপরে এক ঘোর বাস্তব, পেয়েও না-পাওয়ার গল্প শুনতে চাইলে ‘ধূমকেতু’কে মাস্ট ওয়াচ বলা যেতেই পারে।




Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *