এবার গহন অরণ্যে গুপ্তধনের জমজমাট সন্ধান
ছবি: সপ্তডিঙার গুপ্তধন
পরিচালনা: ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিনয়ে: আবীর চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন চক্রবর্তী, ইশা সাহা, রজতাভ দত্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়
দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
RBN রেটিং ★★★★★★★☆☆☆
বাংলা অ্যাডভেঞ্চার ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে ‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’ (Saptadingar Guptodhon) আবারও প্রমাণ করল কেন ‘গুপ্তধন’ সিরিজ এত জনপ্রিয়। এবার গল্পের পটভূমি সুন্দরবন— আর শুরু থেকেই রহস্যের আবহ অনেক বেশি ঘন ও অস্বস্তিকর। নদী, জঙ্গল, লোককথা আর অজানা আতঙ্ক মিলিয়ে ছবিটি এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। এই প্রথম সোনাদা, আবির ও ঝিনুককে সত্যিই পরিস্থিতির চাপে অসহায় বলে মনে হয়েছে।
ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে আবির চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee), অর্জুন চক্রবর্তী (Arjun Chakrabarty) এবং ইশা সাহা (Ishaa Saha)-র অনবদ্য রসায়ন। চার নম্বর ছবিতেও তাঁদের সম্পর্কের স্বাভাবিকতা একটুও কমেনি। আবির চট্টোপাধ্যায় আবারও অত্যন্ত সংযত অথচ দৃঢ় অভিনয়ে সোনাদাকে জীবন্ত করে তুলেছেন। বাড়াবাড়ি নায়কোচিত ভঙ্গি নয়, বরং বুদ্ধি ও স্থিরতাই তাঁর চরিত্রের আসল আকর্ষণ। অর্জুনের সহজাত হাস্যরস ও টাইমিং ছবিকে প্রাণবন্ত করেছে, আর ঝিনুক চরিত্রে ইশা সাহা গল্পে আবেগের গভীরতা যোগ করেছেন।
আরও পড়ুন: আসছে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বড় মাপের প্রদর্শনী ‘আমারে দেব না ভুলিতে’
ছবিতে বাঙালির লোককথার ব্যবহার বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। চাঁদ সদাগর, মনসাদেবী, বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি খুব স্বাভাবিকভাবে গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। যোগা চরিত্রটির উপস্থিতি প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেই আলাদা মজা এনে দেয়। পাশাপাশি রজতাভ দত্ত-র (Rajatava Dutta) দশানন চরিত্রে প্রত্যাবর্তন ছবিতে পুরনো রহস্যের আবহ ফিরিয়ে আনে।
আরও পড়ুন: পঁচাত্তর বছরে কলকাতার চিল্ড্রেনস লিটল থিয়েটার
আলোকচিত্রশিল্পী সৌমিক হালদারের (Soumik Haldar) দৃষ্টিনন্দন সিনেমাটোগ্রাফি ও ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর (Indraadip Dasgupta) আবহ সংগীত ‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’-এ সুন্দরবনকে করে তুলেছে আরো রহস্যময়। যদিও ভিএফএক্স-এ বাঘটিকে কিছুটা অপ্রয়োজনীয়ই মনে হয়েছে। শেষ অংশে চাঁদ সদাগরের বংশধরদের গল্প আরও শক্তিশালীভাবে ব্যবহার করা যেত। তবুও, পারিবারিক বিনোদন হিসেবে ‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’ সফল এবং প্রমাণ করে — ভালো গল্প আর চরিত্রের রসায়নই এখনও দর্শককে দুই ঘণ্টা ধরে বেঁধে রাখতে পারে। পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় (Dhrubo Banerjee) ও প্রযোজনা সংস্থা এস ভি এফ (SVF) (Shrikant Mohta) (Mahendra Soni)-কে ধন্যবাদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার জন্য এমন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি উপহার দেওয়ার জন্য।
