রবীন্দ্রনাথ ও গুলজারের সৃষ্টির মেলবন্ধনে মুগ্ধ করল ‘দুই তারার দোতারা’
RBN News Desk : বিগত শনিবার ২৫ জুলাই বর্ষার স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় কলকাতার সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের জন্য এক অনন্য সুর-সাহিত্যের আসর আয়োজিত হল। ‘খুকুমণি’ নিবেদিত, বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন আয়োজিত ‘দুই তারার দোতারা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সেদিন মঞ্চে মিলিত হল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং প্রখ্যাত গীতিকার-চিত্রনাট্যকার গুলজারের সৃষ্টির দুই ভিন্ন অথচ হৃদয়স্পর্শী জগৎ। রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠান যেন এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক যাত্রায় নিয়ে গেল উপস্থিত দর্শকদের।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রসংগীত ও গুলজারের কবিতা-গানের অপূর্ব মেলবন্ধন। ভালোবাসা, বিরহ, স্মৃতি ও জীবনের নানা অনুভূতির রঙে রাঙানো এই সন্ধ্যায় একের পর এক পরিবেশনা দর্শকদের আবেগে ভাসিয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথের চিরন্তন সৃষ্টির সঙ্গে গুলজারের গভীর ও সংবেদনশীল লেখনী যেন এক নতুন মাত্রা এনে দেয় অনুষ্ঠানে।
আরও পড়ুন: কলের গান থেকে রীলস্ — বাঙালির গান শোনার বিবর্তনের গল্প
সুরের এই বিশেষ আয়োজনকে সমৃদ্ধ করেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শ্রাবণী সেন, মনোময় ভট্টাচার্য, রূপঙ্কর বাগচী, মেখলা দাশগুপ্ত, অরুণাশীষ রায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। প্রত্যেক শিল্পীর পরিবেশনায় ছিল নিজস্ব স্বকীয়তা, যা দর্শকদের দীর্ঘ সময় ধরে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য পরিবেশনাগুলির মধ্যে ছিল শ্রাবণী সেনের কণ্ঠে ‘তবু মনে রেখো’, রূপঙ্কর বাগচীর আবেগঘন ‘তুঝসে নারাজ নেহি’, মেখলা দাশগুপ্তের ‘ছোটি সি কাহানি সে’, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ‘ফিরসে আইয়ো বাদরা বিদেশী’ এবং মনোময় ভট্টাচার্যের ‘আনেওয়ালা পল’। প্রতিটি গানই দর্শকদের করতালিতে মুখর করে তোলে রবীন্দ্র সদনের প্রেক্ষাগৃহ।
সঙ্গীতের পাশাপাশি কবিতার আবহ তৈরি করেন আবৃত্তিশিল্পী রাজা দাস। তাঁর কণ্ঠে গুলজারের কবিতা অনুষ্ঠানের আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। অন্যদিকে গোটা অনুষ্ঠানের সূত্রধরের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলান জনপ্রিয় আরজে অরিজিৎ, যার সাবলীল উপস্থাপনা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের ভাবনা ও সংকলনে ছিলেন সরোজ দরবার। তাঁর পরিকল্পনায় রবীন্দ্রনাথ ও গুলজারের সৃষ্টিকে একই সাংস্কৃতিক পরিসরে উপস্থাপনের প্রয়াস দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। মঞ্চ ভাবনায় ছিলেন সৌম্য সরকার। বর্ষার আবহে এমন একটি সুর-সাহিত্যের সন্ধ্যা কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিঃসন্দেহে এক আলাদা মাত্রা যোগ করল।
আরও পড়ুন: জগন্নাথমঙ্গলম্ — বাংলায় প্রথমবার মঞ্চে এবার রথযাত্রার উদযাপন
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সম্মাননা জানানো হয়। খুকুমণি-র পক্ষ থেকে শিল্পীদের হাতে সম্মান স্মারক তুলে দেন অরিত্র রায়চৌধুরী এবং রিয়া রায়চৌধুরী।
সব মিলিয়ে, ‘দুই তারার দোতারা’ শুধুমাত্র একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান নয়, বরং ছিল দুই কিংবদন্তি স্রষ্টার অনুভূতির জগতকে একসূত্রে গেঁথে দেওয়া এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বর্ষার মায়াবী আবহে রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী সুর এবং গুলজারের হৃদয়ছোঁয়া কবিতা-গানের সম্মিলনে এই আয়োজন উপস্থিত দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন ধরে অনুরণিত হবে বলেই মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
ছবি সৌজন্য : দ্য ড্রিমার্স
