“সারাদিনে এত সমস্যার সমাধান করি যে সিনেমার গোয়েন্দাও হতেই পারি”
আবারও একটা থ্রিলার ছবি। তবে এবারের গল্পটা একটু আলাদা। সায়ন্তন ঘোষালের আগামী ছবি ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’র (Madam Sengupta) মূল চরিত্রে রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। এছাড়াও রয়েছেন কৌশিক সেন, রাহুল বসু, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত দত্ত এবং আরও অনেকে। শুধু চোখ ধাঁধানো অভিনয় শিল্পীর তালিকাই নয়, ছবির অন্যতম বিশেষত্ব হলো সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’। কীভাবে? ম্যাডাম সেনগুপ্ত চরিত্রটাই বা কেমন? উত্তর দিলেন ম্যাডাম স্বয়ং। রেডিওবাংলানেট এর সঙ্গে ছবি নিয়ে একান্ত আড্ডায় পাওয়া গেল ঋতুপর্ণাকে।
শুধুই কি আর একটা থ্রিলার ছবি? কে এই ম্যাডাম সেনগুপ্ত?
ঋতুপর্ণা: ম্যাডাম সেনগুপ্ত মানে অনুরেখা, সে একজন শিল্পী, তবে তারও আগে একজন মা। অনুরেখার মেয়ে খুন হয়। সেই মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক আর তার মৃত্যুর পর সেই রহস্যের অনুসন্ধান এই নিয়েই ছবির গল্প। এছাড়াও আরও অনেক কিছু আছে গল্পটায়। সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য!
ট্রেলার দেখে যেটা মনে হচ্ছে, তোমার সঙ্গে তোমার মেয়ের কিছু বিষয় নিয়ে বিরোধ হচ্ছে। এই মা মেয়ের তর্কাতর্কি কিছুটা ‘উনিশে এপ্রিল’ ছবির মতো কি?
ঋতুপর্ণা: না, উনিশে এপ্রিলের মতো একেবারেই নয়। ওখানে অনেক বেশি আবেগ আর অভিমান একসঙ্গে খেলা করছিল দুজনের মধ্যে। সেটা অনেকটা আমার নিজের মায়ের সঙ্গেও আমার ছিল। মায়ের কথা মনে পড়লে এখনও মনখারাপ হয়ে যায় খুব। মাত্র ছ’মাস হলো চলে গেছে মা। যাই হোক, ছবির কথায় ফিরি। এই ছবিতে মা মেয়ের সম্পর্কটা একটা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হচ্ছে। মেয়ের কিছু ক্ষোভ রয়েছে মায়ের ওপর, তার বাবাকে ঘিরে। কিন্তু তারপরেও মায়ের আবেগ, তার অধিকারবোধ, ভালবাসা এগুলো কোনও অবস্থাতেই বদলায় না। মা পরে সেই মেয়ের জন্যই লড়তে আসে। তখন কিন্তু মেয়ে যে কথাগুলো বলেছিল সেগুলো সে আর মনে রাখছে না।
আরও পড়ুন: ফিরছেন বাবুভাইয়া, স্বস্তিতে দর্শক, সত্যিই কি হয়েছিল সমস্যা?
তার মানে গল্পটা মা কেন্দ্রিক
ঋতুপর্ণা: হ্যাঁ, গল্পটা অবশ্যই মা কেন্দ্রিক। কিন্তু এর বাইরেও অনেক কিছু আছে। আমার চরিত্রটা একজন কার্টুনিস্টের। গল্পটায় একটা জটিল প্লট রয়েছে। আমি যেমন মায়ের চরিত্র করছি তেমনই কৌশিক সেন বাবার চরিত্রে আছে। সেটাও একদিকে যেমন আবেগী চরিত্র আবার কিছু জটিলতা এবং রহস্যও রয়েছে। সেগুলো ছবি দেখতে গেলে বুঝতে পারবে।
এই খুন বা রহস্যের সঙ্গে ‘আবোল তাবোল’ কীভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে?
ঋতুপর্ণা: এটা খুব ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার। আমরা অনেকেই তো ‘আবোল তাবোল’কে ননসেন্স সাহিত্য মনে করি। কিন্তু এর প্রত্যেকটা ছড়ার বিশেষ অর্থ রয়েছে। এই ছড়াগুলো কোন প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে সেটা গল্পে উঠে আসবে, আর যে সমস্ত কালজয়ী ছড়া পড়ে আমরা বড় হয়েছি সেই চরিত্রগুলোকে নিয়ে একটা রহস্য তৈরি হবে। যেটা আমার মনে হয় দর্শকদের কাছেও একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে। অনেককিছু জানা যাবে ছড়াগুলোকে নিয়ে। আমি নিজেও জেনেছি। বিশেষ করে এই প্রজন্ম যারা হয়তো ‘আবোল তাবোল’ সেভাবে পড়েনি তাদেরও আগ্রহ জন্মাবে। সায়ন্তন ওর ছবিগুলোর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অনেক অজানা দিক তুলে আনছে, এটা আমার মনে হয় একদিকে যেমন ইন্টারেস্টিং আবার অনেক নতুন জিনিসও জানতে পারছে মানুষ।
ম্যাডাম সেনগুপ্ত কি নিজেই গোয়েন্দা? নাকি রাহুলকে গোয়েন্দার ভূমিকায় দেখা যাবে এখানে?
ঋতুপর্ণা: ম্যাডাম সেনগুপ্ত কতটা গোয়েন্দাগিরি করবে সেটা এখনই বলা যাবে না। তবে ম্যাডামের যেটা আছে সেটা হলো একটা ইনভেস্টিগেটিং মাইন্ড। তাই ভাবনাচিন্তার কাজ সেও যেমন করেছে, আবার সঙ্গে রাহুলও আছে, অনন্যাও আছে। কে গোয়েন্দা সেটা এখনই বলছি না। কিন্তু গোটা ছবিটা এত টান টান যে দর্শক আনন্দ পাবেন। এই শুক্রবারে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটা। দর্শক অনেক নতুন জিনিস জানতে পারবে।
আরও পড়ুন: মহারাজ হতে চলেছেন রাজকুমার
তুমি কি এর আগে কোনও থ্রিলার ছবিতে অভিনয় করেছ?
ঋতুপর্ণা: না, সেরকম কোনও ছবি করা হয়নি। ইন্দ্রশিসের (আচার্য) ‘পার্সেল’ ছবিতে একটা থ্রিলারের মতো ব্যাপার ছিল, তবে সেটা খুব সামান্য। এছাড়া শিবু (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) একবার আমাকে নিয়ে মিতিনমাসি করবে বলেছিল। ছবিটার ঘোষণা হয়ে গেলেও পরে আর হয়নি সেটা।
গোয়েন্দার চরিত্র পেলে করবে?
ঋতুপর্ণা: নিশ্চয়ই, কেন করব না? আমার সব ধরনের চরিত্র করতে ভালো লাগে। আর তাছাড়া আমার ফিচার যা তাতে গোয়েন্দা হিসেবে আমি মানিয়ে যাবো বলেই আমার ধারণা। এছাড়াও সারাদিনে এত লোকের এত সমস্যার সমাধান করি যে সিনেমায় অন্তত একবার গোয়েন্দা হতেই পারি (হাসি)।
ছবি: প্রতিবেদক
