কৃষ্ণনগর গ্রেস কটেজে ‘আমারে দেব না ভুলিতে’
RBN News Desk: সম্প্রতি সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলামের (Kazi Nazrul Islam) স্মৃতি বিজড়িত কৃষ্ণনগরের গ্রেস কটেজে (Krishna Nagar Grace Cottage) ছায়ানট (কলকাতা) এবং কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র – র যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল ‘আমারে দেব না ভুলিতে’ । অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী পীতম ভট্টাচার্য-র পরিচালনায় সমবেতভাবে উচ্চারিত হল নজরুল রচিত শতবর্ষী কবিতা ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’। অংশগ্রহণে কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র-র ৫০ জন বাচিক শিল্পী।
মাহবুবুল হকের লেখা ‘নজরুল তারিখ অভিধান’ থেকে জানা যায় — “২২-২৩ মে, ১৯২৬ সালে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে রাজবাড়ির নাটমন্দিরে (মহারাজ বাহাদুর হলে) বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন পরিষদের কর্মকর্তা হিসেবে নজরুল বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কাজে ছিলেন সক্রিয়। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় মর্মান্তিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিস্থিতিতে। প্রকাশ্য ধর্মীয় মিছিলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দাঙ্গায় বেদনাবিক্ষুব্ধ নজরুল দাঙ্গার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে হুঁশিয়ারি আহ্বান জানিয়ে ২২ মে সম্মেলনের উদ্বোধনী সংগীত হিসেবে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানটি পরিবেশন করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন দিলীপকুমার রায় ও তাঁর সহশিল্পীরা। এই সম্মেলনকালে বা এর অব্যবহিত পরে মে মাসের মধ্যেই এখানে আরও দুটি সম্মেলন হয়। ছাত্র-সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি সরোজিনী নাইডু। যুব সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইংরেজি ফরওয়ার্ড পত্রিকার সহকারী সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। নজরুল এ তিনটি সম্মেলনের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। ছাত্র সম্মেলনে তিনি উদ্বোধনী সংগীত হিসেবে পরিবেশন করেন ‘ছাত্রদলের গান’। যুব সম্মেলনে উদ্বোধনী সংগীত হিসেবে পরিবেশন করেন ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি।”
আরও পড়ুন: ‘নেতাজী ও নজরুল — দুই অগ্নি পুরুষ’ এসময়ের জরুরি উদ্যোগ
আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক ড. দেবনারায়ণ মোদক এবং ছায়ানট (কলকাতা) – র সভাপতি, নজরুল-সঙ্গীতশিল্পী ও গবেষক সোমঋতা মল্লিক। কৃষ্ণনগরের সঙ্গে নজরুলের নিবিড় সম্পর্কের ব্যাপারে আলোকপাত করেন দুই বক্তা। কবির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই গ্রেস কটেজ। নজরুল-স্মৃতি বিজড়িত এই গ্রেস কটেজ তাই নজরুলপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আবেগের জায়গা। অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতি দেখে বোঝা যায়, কৃষ্ণনগরের মানুষ তাঁদের অন্তরে নজরুলকে কতখানি ধারণ করেন।
