ঋতুপর্ণর জন্মদিনে দেবজ্যোতি মিশ্রের ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’, কলকাতায় শুভা মুদগল
RBN News Desk: ঋতুপর্ণ ঘোষকে কি শুধু তাঁর সিনেমা দিয়ে চেনা যায়? নাকি তাঁর তৈরি ছবির ফ্রেমের বাইরেও লুকিয়ে আছে আরও এক ঋতুপর্ণ—যিনি গান শুনতেন মন দিয়ে, সুর নিয়ে ভাবতেন, তর্ক করতেন, আবার হঠাৎ কোনও কথায় সবার সঙ্গে মজাও করতে পারতেন ? সেই চেনা-অচেনা ঋতুপর্ণকেই (Rituparno Ghosh) এবার সুর, কবিতা, স্মৃতি আর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ফিরে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন সুরকার-যন্ত্রী দেবজ্যোতি মিশ্র (Debojyoti Mishra)।
আগামী ৩০ অগস্ট, ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মদিনের ঠিক আগের সন্ধ্যায়, জি.ডি. বিড়লা সভাঘরে দেবজ্যোতি মিশ্রর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’ (Piya Tora Kaisa Abhiman – Memories and Ritu) । আয়োজনে বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন এবং নিবেদনে বোরোলিন।
ভাবনাটা যেন অনেকটা ঋতুপর্ণের সিনেমার মতোই। বর্ষণসিক্ত মেঘলা দিন, ভেজা রেনকোট থেকে বিন্দু বিন্দু ঝরে যাওয়া জল, দূরে ছুটে চলা ট্রেনের শব্দ আর তার সঙ্গে মিশে যাওয়া বিরহী বাঁশির সুর। কোথাও রবীন্দ্রনাথের ‘অমল ধবল পালে’, কোথাও ‘মথুরানগরপতি’, আবার কখনও ‘মেঘ পিওন’ কিংবা ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’। গানগুলি শুধু গান হিসেবে নয়, ঋতুপর্ণের সৃষ্টিশীল জগতের নানা মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি হিসেবে ফিরে আসবে।
আরও পড়ুন: ‘দুই ইঞ্জিনে’ ফের ছুটবে জয়-লোপা এক্সপ্রেস
ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র। ‘উৎসব’, ‘রেনকোট’, ‘চোখের বালি’, ‘তিতলি’—তাঁদের সৃষ্টিশীল সহযোগিতায় বাংলা ছবির সঙ্গীত পেয়েছে এক বিশেষ মাত্রা। ঋতুপর্ণের ছবিতে গান কখনও শুধুই গান ছিল না; গল্প, চরিত্র এবং আবেগের সঙ্গে মিশে তা হয়ে উঠত চলচ্চিত্রেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা।
সেই সম্পর্কের স্মৃতি থেকেই এবারের অনুষ্ঠান। তবে এটি শুধুমাত্র কোনও ‘Tribute Show’ নয়। বরং গান এবং গল্পের মধ্য দিয়ে ঋতুপর্ণকে নতুন করে আবিষ্কারের চেষ্টা। তাঁর বিজ্ঞাপনের কাজ, সিনেমায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের অভিনব ব্যবহার, বিভিন্ন গানের নেপথ্যের গল্প এবং তাঁর সঙ্গীতবোধ—সবকিছুই উঠে আসবে অনুষ্ঠানের কথায় ও পরিবেশনায়।
এই সুরের সফরে দেবজ্যোতি মিশ্র নিজেই থাকছেন মূল সূত্রধর হিসেবে। কখনও তাঁর হাতে থাকবে বেহালা, কখনও তিনি বলবেন ঋতুপর্ণের গল্প। তাঁর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেবেন শুভা মুদগল (Shubha Mudgal), শুভমিতা (Subhamita Banerjee), জয়তী (Jayati Chakrabarty), রাঘব (Raghab Chatterjee), মনোময় (Manomay Bhattacharya) ও অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় (Anindya Chattopadhyay)।
শুধু গানেই থেমে থাকবে না অনুষ্ঠান। মহাভারতের একটি বিশেষ অংশ পাঠ করবেন সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (Sujoy Prasad Chatterjee)। ঋতুপর্ণের প্রিয় কবিতা পাঠ করবেন শোভনসুন্দর (Shovan Sundar Basu) । সঙ্গে থাকবেন একাধিক বিশিষ্ট যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী। ফলে গান, কবিতা, পাঠ এবং যন্ত্রসঙ্গীত মিলিয়ে তৈরি হবে এক বহুমাত্রিক পরিবেশনা।
আরও পড়ুন: বাংলা ছবিতে নতুন গল্পের হাওয়া, একসঙ্গে পাঁচ ছবির পোস্টার লঞ্চ
দেবজ্যোতি মিশ্রের কথায়, “ঋতু একজন বহুমুখী প্রতিভার নাম।নানা বিষয়ে ভীষণ খুঁতখুঁতে,তর্কে হারানো মুশকিল, দারুণ সেন্স অফ হিউমার, আবার খুব সঙ্গীত রসিক একজন মানুষ।সেই ঋতু যিনি আমার কন্ঠে গান খুব পছন্দ করতেন, রবীন্দ্রনাথের গানের সিনেমায় অনন্য সাধারণ ব্যবহার করেছেন, সলিল চৌধুরীর গানের অনুরাগী এমন এক ঋতুকে আমি সেদিন আলোচনায় গানে, যন্ত্রসংগীতে উপস্থাপিত করবো।”
সবচেয়ে বড় চমকের মধ্যে থাকছে এমন কিছু সৃষ্টির পরিবেশনা, যা একসময় ঋতুপর্ণের কোনও কাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হয়ে ওঠেনি। ফলে ৩০ অগস্টের এই সন্ধ্যা শুধু স্মরণসভা নয়, বরং সুরের পথ ধরে এক সৃষ্টিশীল ঋতুপর্ণ-অন্বেষণ হয়ে উঠতে চলেছে।
