‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’-এর ‘চলে যেও না’ গানে কলকাতা পেল নতুন সুরের তারকা অনস্মিতা ঘোষ

RBN Newsdesk :  কলকাতা যেন আবারও নতুন এক সুরের তারকার সন্ধান পেল। উইন্ডোজ প্রোডাকশনের (Windows Production) সাম্প্রতিক ছবি ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’-এর (Phool Pishi O Edward) গান ‘চলে যেও না’-তে (Chole Jeo Na) অনস্মিতা ঘোষের (Anasmita Ghosh) অনবদ্য গায়কি ইতিমধ্যেই সঙ্গীতপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। কিংবদন্তি পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় (Nandita Roy) ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shiboprosad Mukherjee) পরিচালিত এই ছবিতে প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক জয় সরকারের (Joy Sarkar) সুরে অনস্মিতার কণ্ঠ গানটিকে দিয়েছে এক আলাদা আবেগ ও গভীরতা।

‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’-এর প্রিমিয়ারে পরিচালক নন্দিতা রায়-এর সঙ্গে অনস্মিতা

এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে উচ্ছ্বসিত অনস্মিতা বলেন, “উইন্ডোজ প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে স্বপ্নপূরণের থেকেও বড় অভিজ্ঞতা। স্ক্র্যাচ (Scratch) গাওয়া থেকে মূল গানটি রেকর্ড করা পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত ছিল শেখার আর নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার।”

আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথ ও গুলজারের সৃষ্টির মেলবন্ধনে মুগ্ধ করল ‘দুই তারার দোতারা’

তবে অনস্মিতা ঘোষ (Anasmita Ghosh) সঙ্গীত জগতের একেবারে নতুন নাম নন। তাঁর যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রথম হিন্দি অ্যালবাম ‘মাশরুফ’ (Mashruf) দিয়ে, যেখানে ছিল তাঁর নিজের লেখা ও সুর করা একাধিক গান। একজন গায়িকার পাশাপাশি তিনি একজন সফল গীতিকারও। তিনি গান লিখেছেন অন্বেষা (Anwesha) (এক সুবহ), অন্তরা নন্দী (Antara Nandy) (জানে কিউঁ নহি), শোভন গাঙ্গুলী (Shovan Ganguly)  (ম্যায় হুঁ তেরে লিয়ে), রঙ্কিণী গুপ্তা (Ronkini Gupta) এবং অশ্বিন শ্রীনিবাসন (Ashwin Srinivasan)(দিল নে জো মেরে কহা হ্যায়)-এর মতো গুণীশিল্পীদের জন্য । বাংলা ছায়াছবি ‘মাইকেল’ (২০১৮)-এর জন্য একটি হিন্দি গান লিখেও তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত হন।

গীতিকার হিসেবেও অন্সমিতার সাফল্যও কম নয়। ক্লেফ মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (Clef Music Awards)-এ ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পরপর দু’বছর সেরা গীতিকারের পুরস্কার পান ‘শুনলে মওলা’ ও ‘ইয়ে জিন্দেগি’ গানের জন্য।

প্লেব্যাক (Playback) গানের জগতেও অনস্মিতা ধীরে ধীরে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন। ‘বাই বাই ব্যাংকক’, ‘বেলাশুরু’-র ‘টাপা টিনি’ আর ‘বহুরূপী’-র ‘বেহুলা সুন্দরী’ গানের কোরাস অংশে তাঁর কণ্ঠ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি ‘রানি রাসমণি’, ‘পটল কুমার গানওয়ালা’-র মতো জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং ‘গান্ধী ভার্সেস গান্ধী’-র মতো থিয়েটার প্রযোজনাতেও তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কলের গান থেকে রীলস্ — বাঙালির গান শোনার বিবর্তনের গল্প

বোকারোর ছোট শহর থেকে কলকাতায় এসে স্বপ্নপূরণের লড়াই শুরু করেন অনস্মিতা। ‘শ্রুতিনন্দন’-এ প্রায় এক দশক ধরে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন। পাশাপাশি আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, গজল (Ghazal), ছন্দ-তাল ও পাশ্চাত্য কণ্ঠসংগীতেও তাঁর দীর্ঘ প্রশিক্ষণ রয়েছে।

বর্তমানে লাইভ পারফরম্যান্স (Live Performance) ও বাণিজ্যিক রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি তিনি নিজের স্বাধীন সঙ্গীত (Independent music) প্রকল্প নিয়েও ব্যস্ত। এবারের পুজোর আগেই একটি নতুন গজল অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। গায়িকা, সুরকার ও গীতিকার—এই তিন পরিচয়ের মেলবন্ধনে অনস্মিতা ঘোষ আজ বাংলা সঙ্গীতজগতের এক প্রতিশ্রুতিময় নাম। কলকাতা এখন তাঁর পরবর্তী গানের অপেক্ষায়।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *