পুজোয় পেটপুজোর নতুন ঠিকানা পঙ্কজ মল্লিকের স্মৃতিবিজড়িত ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি ক্যাফে’

RBN News Desk: দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে উৎসব, আড্ডা আর পেটপুজো। সেই পেটপুজোর তালিকায় এবার নতুন সংযোজন দক্ষিণ কলকাতার ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি ক্যাফে’। কিংবদন্তি সুরকার ও গায়ক পঙ্কজ মল্লিকের বালিগঞ্জের বাড়ির একাংশে গড়ে ওঠা এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ক্যাফেতে এবার প্রথম দুর্গাপুজো উপলক্ষে থাকছে বিশেষ খাবারের আয়োজন।

সেবক বৈদ্য স্ট্রিটে, হাজরা রোড সংলগ্ন প্রায় শতবর্ষপ্রাচীন আর্ট ডেকো ভবনের এই ঠিকানার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পঙ্কজ মল্লিকের স্মৃতি। বাঙালির মহালয়ার আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা আকাশবাণী কলকাতার ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র সঙ্গেও তাঁর নাম অবিচ্ছেদ্য। গত ১১ মে, ২০২৬ থেকে পথচলা শুরু করেছে ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’। উদ্যোগের কর্ণধার পঙ্কজ মল্লিকের দৌহিত্র রাজীব গুপ্ত ও দৌহিত্রবধূ ঝিনুক গুপ্ত।

আরও পড়ুন: ‘কেয়ার অফ এ জার্নি’র গানে গ্রাম থেকে শহরের যাত্রা, সুরে দেবজ্যোতি মিশ্র

এই কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ একটি পূর্ণাঙ্গ ইন-হাউস ক্যাফে। ক্যাফের অন্দরসজ্জায়ও রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া। পঙ্কজ মল্লিকের ব্যবহৃত অর্গান ও তানপুরা, রেকর্ড কভার, আকাশবাণীর স্মৃতি, চলচ্চিত্রের বুকলেট, বিভিন্ন ছবি, ডাকটিকিট ও পুরস্কারের স্মারক এখানে প্রদর্শিত। পাশাপাশি তাঁর গান শোনার ব্যবস্থাও রয়েছে। 

‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি ক্যাফে’-র কর্ণধার শ্রী রাজীব গুপ্ত ও শ্রীমতী ঝিনুক গুপ্ত

পুজোর মরশুমে সাশ্রয়ী মূল্যে বাঙালি খাবারের পাশাপাশি চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল পদ, মকটেল এবং কফির সম্ভার থাকছে। পকেট-ফ্রেন্ডলি কম্বো মিলও রাখা হয়েছে। বর্তমান অনলাইন মেনুতেও বাংলা, চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল খাবারের বিস্তৃত তালিকা রয়েছে। মেনুতে বিশেষভাবে চিহ্নিত রয়েছে পঙ্কজ মল্লিকের প্রিয় খাবারগুলিও। শান্ত ও মনোরম পরিবেশে এখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে। সঙ্গে রয়েছে ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং বিনোদনের আধুনিক ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: তব জয়গানে’র পঞ্চম বর্ষ: রবীন্দ্র সদনে দুর্গোৎসবের সাংস্কৃতিক আয়োজন

শুধু খাবারের জায়গা নয়, ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’কে একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক পরিসর হিসেবেই গড়ে তুলতে চায় কর্তৃপক্ষ। ২০০৫ সালে রাজীব গুপ্ত ও ঝিনুক গুপ্ত প্রতিষ্ঠিত পঙ্কজ মল্লিক মিউজিক অ্যান্ড আর্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এখানে কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়। ফলে পুজোর ভিড়ে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রসনাবিলাস—তিনের মেলবন্ধনে এই ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে কলকাতার এক নতুন আকর্ষণ।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *