অভিনব উদ্যোগে পুজোর গানে বাংলার বহুরূপী শিল্পীরা

RBN Web Desk: বেশ কয়েক বছর আগেও ওঁরা শহরে আসতেন। সকালবেলায় পাড়ায় ভগবানের নানা রূপে, কখনও বা চড়কের মেলায়, চৈত্র শেষে জেলেপাড়ার কিংবা কালীঘাটের সং সেজে। নানা রূপ ধারণ করে দর্শকদের নজর কাড়তেন। ওঁরা বহুরূপী। বীরভূমের কূলে, শীতলগ্রাম তাঁদের বসবাস। নামমাত্র পারিশ্রমিক, অনুষ্ঠানের সংখ্যাও কম, লকডাউনের থাবা, সব মিলিয়ে বাংলার প্রাচীন লোকশিল্প আজ অসিত্ত্ব সংকটে। নমামাত্র সরকারী অনুদান পান তাঁরা। অন্য সময় কিছু সরকারি, বেসরকারি অনুষ্ঠান হলেও এই লকডাউনের সময় তাঁদের সেই রোজগারও বন্ধ।

বাংলার বহুরূপী শিল্পীদের সম্মান জানাতে আগমনী গানে তাঁদের ক্যামেরাবন্দি করা হলো বীরভূমের মাটিতে। অজয়ের পাড়ে কাশের বনে, নদীবক্ষে নৌকাবিহারে, গ্রামের মেঠো পথে, মন্দিরের আঙিনায় তাঁদের দেখা যাবে দুর্গার সপরিবারে। ‘উমা মা তোর চরণতলে’ গানটি গেয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও মোনালিসা দে। কথা ও সুর মোনালিসার। শুধুমাত্র বহুরূপী শিল্পীদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্যই এই আগমনী গানের উদ্যোগ। শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা করার পাশাপাশি তাঁদের আবার কাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে এই গান। সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘উমা মা তোর চরণ তলে’র মিউজ়িক ভিডিওর মূল ভাবনা সুদীপ্ত চন্দের।

আরও পড়ুন: পুজোর ‘গুলদস্তা’, মুক্তি পেল ট্রেলার

সংবাদমাধ্যমকে সুদীপ্ত জানালেন, “বীরভূমের বহুরূপী শিল্পীদের পুজোর গানে নিয়ে আসার কথা আগেও ভেবেছিলাম।এই লকডাউনে শহরের শিল্পীদের পাশাপাশি বহু লোকশিল্পীরা রোজগার হারিয়েছেন। সরকারি অনুদান মাসিক এক হাজার টাকা। যাঁরা বাংলার এই অন্যতম প্রাচীন লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, এই গান তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।”

১৯ অক্টোবর আমারা মিউজ়িকের তরফে অনলাইনে মুক্তি পাবে ‘উমা মা তোর চরণ তলে’। এছাড়া ২২ অক্টোবর বহুরূপী শিল্পীদের গাওয়া ‘দশভূজা জননী এল’ মুক্তি পাবে ২২ অক্টোবর। গানটির সঙ্গীত আয়োজন করেছেন অরুণাভ চট্টোপাধ্যায়।

Amazon Obhijaan



Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *