‘বাংলা ছবিতে আবহ সঙ্গীতের গুরুত্ব বাড়ছে’

নিজের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঘরানা থেকে বেরিয়ে এসে ছবির কাজ খুব বেশি না করলেও, যেটুকু করেন সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে দর্শককে নতুন কিছু উপহার দিতে বিশ্বাসী তিনি। সম্প্রতি তাঁর সুরারোপিত ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ পূর্ণ করল ৫০ দিন। থ্রিলারধর্মী এই ছবিতে রহস্য উন্মোচনের সূত্র লুকিয়ে রয়েছে সঙ্গীতে। ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ ও বাংলা ছবিতে আবহ সঙ্গীতের ব্যবহার নিয়ে রেডিওবাংলানেট-এর সঙ্গে কথা বললেন বিক্রম ঘোষ।

প্রথমেই অভিনন্দন, বাংলা ছবিতে এরকম সঙ্গীত বড় একটা শোনা যায় না

ধন্যবাদ। হ্যাঁ, একদম তাই। ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’-এর মিউজ়িক পুরো গল্পটার সঙ্গে মিশে আছে। ছবিটা যখন চলছে তখন এর গান এবং আবহ সঙ্গীত দুটোই মন দিয়ে শুনতে হবে। এই ছবির সঙ্গীত গল্পটার ন্যারেটিভেরই একটা অংশ, ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয় যা অন্য অনেক ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।




কতদিন লেগেছিল এই ছবির কাজটা করতে? কিভাবে এগিয়েছিলেন?

মাস তিনেক লেগেছে ছবির আবহ সঙ্গীত নিয়ে কাজ করতে। প্রতিটা যন্ত্রের আলাদা শব্দ আছে, সেগুলোকে দিয়ে গল্পের কাঠামোটা ধরার একটা চেষ্টা করেছি। অনেক ভাবনাচিন্তা করে এগোতে হয়েছে সেই কারণে। যে গল্পটা বাংলার ইতিহাস নিয়ে, সেখানে তো আমি বিদেশী সুর ঢোকাতে পারব না। তাই এমন সুর করতে হয়েছে যেখানে বাংলার মাটির গন্ধটা থাকবে।

এখন তো আপনার সুর শুনলে আলাদাভাবে চেনা যায়। এই স্টাইলটা কি সচেতনভাবেই তৈরী করেছেন?

হ্যাঁ, একেবারেই সচেতনভাবে করা। আমি তো খুব বেশি কাজ করি না। যখন করি তখন একেবারে কাজটার ভেতরে ঢুকে যাই। কিছুদিন ওটার ভেতরেই থাকি, সেটা বুঝতে সময় নিই। অ্যানালিটিকালি এগোই। লক্ষ্য থাকে এমন শব্দ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেটা তাঁরা আগে শোনেননি। এমন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করার চেষ্টা করি যেটা শ্রোতার কাছে নতুন। আর এইভাবে ধরে ধরে কাজটা করার ফলে দর্শকও সেটার কদর বোঝেন। অরিন্দমের (শীল) ছবিগুলো করতে করতে এখন একটা স্টাইল, একটা ইউনিক সাউন্ডের রীতি এসে গেছে।

শব্দ যখন ছবি আঁকে

আপনার খ্যাতি ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে। আবহ সঙ্গীত নিয়ে কবে থেকে ভাবা শুরু করলেন?

আমি ২০০৩ সাল থেকে ছবির মিউজ়িক করছি। তখন এটা নিয়ে অতটা ভাবিনি। কিন্তু ২০১৫-তে যখন ‘জল’ ছবিটা অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হল, তখন ভাবলাম আমার কাজ যদি ওই পর্যায়ে যেতে পারে তাহলে আবহ সঙ্গীতের কাজটাও মন দিয়ে করা দরকার। বিদেশে তো আবহ সঙ্গীতের ওপরেই একটা গোটা গল্প দাঁড়িয়ে থাকে। তাহলে সেটা এখানেও কেন হবে না?  

বাংলা ছবিতে আবহ সঙ্গীতের ব্যবহার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে হয়?

অবশ্যই। ২০০৫-এর পর ছবির মিউজ়িকে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলাম আমি। সেই সময় এরকম কাজ হচ্ছিল না। সেই অবস্থাটা পাল্টাতে সময় লেগেছে। লোকে বুঝে গেছে এখন আর কাট-পেস্ট করে কাজ করা যাবে না। এত সিন্সিয়রলি ধরে ধরে এই কাজটা করার ফলেই কিন্তু আবহ সঙ্গীত মানেই সাতদিনের কাজ, এই ধারণাটা বদলে গেছে। আবহ সঙ্গীতের গুরুত্ব এখানে সবাই বুঝেছে, বাজেটও বেড়েছে। এখন তো আমি বিদেশী শিল্পীদের নিয়েও রেকর্ডিং করাই। তাদের ফাইল পাঠানো হয় তারা বাজিয়ে পাঠিয়ে দেন। ‘ব্যোমকেশ গোত্র’র একটা জায়গায় চেলোর একটা অংশ আমি গ্র্যামি পুরস্কার জয়ী ব্যারি ফিলিপসকে দিয়ে বাজিয়েছিলাম।

Amazon Obhijaan



Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

Swati

Editor of a popular Bengali web-magazine. Writer, travel freak, nature addict, music lover, foody, crazy about hill stations and a dancer by passion. Burns the midnight oil to pen her prose. Also a poetry enthusiast.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *